হংকংভিত্তিক কোম্পানি সিকে হাচিসনের শেয়ারদরে গতকাল ৫ শতাংশ পতন দেখা গেছে। মূলত পানামা খালে কোম্পানিটির অধীনে থাকা দুটি বন্দর বিক্রির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চীনের সমালোচনার পর দরপতন ঘটে। এদিন মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে সিকে হাচিসনকে ‘পুনর্বিবেচনার’ পরামর্শ দিয়েছে চীন। খবর এফটি।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে পানামা খাল থেকে চীনের কৌশলগত স্বার্থ উৎখাতে পানামার ওপর চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের সঙ্গে ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলারের চুক্তির মাধ্যমে বন্দর দুটি স্থানান্তরে সম্মত হয় সিকে হাচিসন। এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের সম্মতি থাকলেও নাখোশ বেইজিং।
‘ঘৃণ্য উপায়ে’ চুক্তির জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এনে কড়া ভাষায় লেখা একটি মতামত গত সপ্তাহে হংকংয়ের বেইজিং সমর্থিত সংবাদপত্র তা কুং পাওয়ে প্রকাশিত হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে হংকংবিষয়ক চীনের শীর্ষ দপ্তর থেকে লেখাটি পুনরায় প্রকাশ করা হয়।
সেখানে বলা হয়েছে, ‘সমালোচকদের মতে সিদ্ধান্তটি দুর্বল ও স্বার্থপর, যা শুধু মুনাফার জন্য নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থে সততা বিসর্জনও দেয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এটি চীনের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার শামিল।’
চীনের দাবি, তাদের শিপিং ও বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তাই চূড়ান্ত চুক্তির আগে সিকে হাচিসন কোন অবস্থান ও পক্ষ বেছে নেবে তা ভালোভাবে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
আর্থিক পরিষেবা সংস্থা মর্নিংস্টারের জ্যেষ্ঠ ইকুইটি বিশ্লেষক ড্যান বেকার বলেন, ‘শুক্রবার শেয়ারদরে পতন থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ার পরও চুক্তিটি সম্পন্ন হবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’ তবে তিনি এও মনে করেন, বাজার প্রতিক্রিয়াটি ‘অতিরিক্ত’ হতে পারে।
ড্যান বেকার বলেন, ‘এখনো চীনে সিকে হাচিসনের কিছু সম্পদ রয়েছে। চীন সরকার বন্দর বিক্রির কারণে অসন্তুষ্ট হলে দেশটিতে থাকা ব্যবসাগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।’
২০২৩ সালে সিকে হাচিসনের মোট আয়ের প্রায় ১৪ শতাংশ এসেছে চীনের মূলভূখণ্ড ও হংকং থেকে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ থেকে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
বন্দর বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে সিকে হাচিসন বা চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান কোনো মন্তব্য করেননি।
একটি সমঝোতা চুক্তির আওতায় বিলিয়নেয়ার লি কা-শিংয়ের মালিকানাধীন সিকে হাচিসনের ৪৩টি বন্দর ব্ল্যাকরকসহ একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রি হবে। এর মধ্যে পানামা খালের দুই প্রান্তে থাকা দুটি বন্দরও অন্তর্ভুক্ত।